আগে ছিল বাঘ, এখন বেড়াল, করোনা সম্পর্কে কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা

Covaxin trial

এ বছরের শুরু থেকেই যেন এক ভয়াবহ বিপদের সন্মুখিন হতে হয় সমগ্র মানব প্রজাতিকে। করোনা ভাইরাসের কারনে প্রতি মুহুর্তেই মানুষ মারা গেছে। এই ভাইরাসের কারনে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশই কম বেশি প্রভাবিত হয়েছে। মনে করা হয়, যার শুরুটা হয়েছিল চিনের উহান প্রদেশের একটি বাজার থেকে।

দেশে বর্তমানে যে হারে করোনা ভাইরাস মানুষকে আক্রান্ত করে চলেছে, সেই হারে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে না বলে দাবি বিশেষজ্ঞ মহলের। এই মহামারীর শুরুর দিকে যে হারে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছিল তা এখন আর হচ্ছে না। বয়স্ক মানুষের করোনা হলেই আগে মারা যেত দু’ই থেকে তিন দিনের মধ্যেই। তবে এখন বয়স্ক মানুষের মধ্যে মৃত্যুর হার কমে গেছে। এমনকি ভেন্টিলেসনেরও দরকার পড়ছে না।

আরও পড়ুনঃ স্ট্রেস কমাতে রোজ খান এই ৫টি খাবার

তাই বিজ্ঞানীরা আশাবাদী এই মহামারী যে গতিতে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই গতিতেই আবার চলে যাবে। এখন যে হারে মানুষ আক্রান্ত হয়ে চলেছে সেই হারে মৃত্যু হচ্ছে না আর। তাই ইতালির এক বিক্ষ্যাত সংক্রমক রোগ নিশেষজ্ঞ মেটও বাশেট্টি বলেন, পূর্বে করোনা ছিল জঙ্গলের বাঘ, আর এখন বিড়াল হয়ে গেছে।

ভারতে করোনায় মোট আক্রান্ত ২৪,৬১,১৯০ জন। সুস্থ হয়েছে ১৭,৫১,৫৫৫ জন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮,০৪০ জন।

আরও পড়ুনঃ এবার BDO, SDO-দের কাজের মুল্যায়ন করবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী

মাত্র ৯৫ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে একটি গোটা বাড়ি, ইতালির শহর চিনকুইফ্রন্ডে

house selling for rs 95 in italy

কথাটা পড়ে বা শুনেই অবাক হওয়ারই কথা। কিন্তু বাস্তবে তাই ঘটেছে। দেশে ৯৫ টাকাতে একটা পরিবারের এক দিনের পেট ভরাতেই কম পড়ে যায়। সেই মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে একটা আস্ত বাড়ি। এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটেছে ইতালির একটি ছোটো শহর চিনকুইফ্রন্ডে।

সেই শহরের মেয়র কিছু দিন ধরে একটি নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন। ‘অপরেশন বিউটি’ নামক এক প্রকল্প শুরু করেছেন তিনি। শহরের যুবক ও যুবতীরা কাজের সন্ধানে বড় শহরে চলে যায়। তার ফলে এই রকম ছোটো শহর গুলিতে প্রচুর বাড়ি ফাঁকা হয়ে যায়। আর তাই তিনি অপরেশন বিউটি নামক প্রকল্পের সাহায্য নিয়েছেন।

নতুন করে শহর গড়ে তুলতে চাইছে সেখানের প্রশাসন। সেই ছোটো শহরের বেশিরভাগ জায়গাই জনমানব শুন্য হয়ে পড়েছে। কোনো মানুষ নেই সেই জায়গাগুলিতে।

আরও পড়ুনঃ শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন থেকে মিলল প্রচুর সোনা ও টাকা, উত্তেজনায় খড়গপুর

জায়গা যে খারাপ তা একেবারে নয়। শহরের এক পাশে রয়েছে পাহাড়, অন্য পাশে রয়েছে সমুদ্র। শহর থেকে ১৫ মিনিট দুরেই শুরু হয়েছে সমুদ্রতট। তাই বলাই যায় খুবই মনোরম পরিবেশ। এই জন শূন্যতার কারণ করোনা একেবারেই নয়। কারণ এই ছোটো শহরে কোনো করোনা রোগী নেই। আর তাছাড়া ইতালি নিজেকে অনেকটাই সামলে নিয়েছে। এখন আর ইতালির কোথাও লকডাউন নেই। পর্যটকদের জন্যেও উন্মুক্ত করা হয়েছে ইতালির দরজা।

এই শহরটিকে আবার মানুষে ভরে তোলার জন্যই এই পদক্ষেপ নিয়েছে সেখানের প্রশাসন। তবে বাড়িগুলি নিতে গেলে মেনে চলতে হবে কিছু শর্ত। সেখানে বসবাস করার সাথে সাথে বাড়িগুলির সংস্করণও করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ বাঙালি বিজ্ঞানীর কথাই কি তবে ঠিক, ভারতে ২১ লাখ সংক্রমণ জুলাইয়ের মধ্যে!

করোনা মানব সভ্যতার এক অভিন্ন অংশ হতে চলেছে, সতর্ক বার্তা দিক “হু”

The-number-of-Corona-virus-is-increasing-in-America.

করোনা ভাইরাসের আক্রমণ প্রথম শুরু হয় গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে। তার পর থেকে আক্রান্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা দিন প্রতি বহুগুন বেড়ে যায়। মাহামারীর আকার ধারন করে এই কোভিড-১৯। বিশ্বের প্রায় ২০০ টির বেশি দেশ এই মারন ভাইরাসের সাথে লড়াই করছে। দুনিয়া জুড়ে ৪৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এই রোগে। মৃতের সংখ্যা ৩ লক্ষ ছুঁই ছুঁই। এর মধ্যেই হু এর তরফ থেকে এলো এক নতুন সতর্কবার্তা। নভেল করোনাভাইরাস কখনই দূর হবে না, প্রতি বছর নিজেকে নতুন ভাবে তৈরি করে বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াবে এই করোনা, জানালেন হু এর ডিরেক্টর ড. মাইক রায়ান।

হু কর্তার বার্তায় পরিষ্কার করে বলে দিলেন, এবার থেকে এই নতুন ভাইরাসকে সঙ্গে নিয়েই বেঁচে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে। পৃথিবী থেকে কোনো দিনই এই করোনা অবলুপ্ত হবে না। ঠিক যেমন এইচআইভি বা ইবোলা, এদের মতোই পৃথিবীতে রয়ে যাবে এই করোনা।

আরও পড়ুনঃ সোমবার থেকে শহরে চালু বেসরকারি বাস

বর্তমানে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য দিন রাত গবেষনা করে চলেছে দেশে-বিদেশের গবেষক ও বিজ্ঞানীরা। প্রায় ১০০ টি ভ্যাকসিনের উপর কাজ করছে তারা। এদের মধ্যে কয়েকটি ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চলছে। হু কর্তা ড. রায়ান এও বলেন ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এই ভাইরসকে কাবু করা যাবে না, মানুষের প্রাণ নেওয়া কোনো প্রকারেই বন্ধ করা যাবে।

করোনার হাত থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে বিশ্বের বহু দেশ লকডাউনের সাহায্য নিয়েছে। আবার কিছু দেশ লকডাউন শেষ করে আবার স্বাভাবিক জীবনের দিকে ফিরে যাচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ঠিক করতে নেমে পড়েছে। তবে করোনা যে আবার আক্রমণ করবে না, মৃত্যুলীলা চালাবে না, তাঁর কোনো গ্যারিন্টি নেই কারো কাছে।

আরও পড়ুনঃ ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত থাকছে ট্রেন চলাচল, জানালো রেলমন্ত্রক

নজির গড়লেন এক গর্ভাবতী নার্স করোনার মাঝেও তিনি মানুষের সেবায়

Roopa Praveen Rao

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বারবার দেখা গেছে ডাক্তারদের উপর অত্যাচার। মানুষ ডাক্তারদের মারধোর করেছে, নার্সের সাথে দুর্ব্যবহার। তবুও তাদের কাজ তারা থামিয়ে দেয়নি, লড়াই করে চলেছে প্রতি দিন। সেই রকমই এক দৃশ্য দেখা গেল শিবমজ্ঞার এক ছোট্ট গ্রামে।

কর্নাটকের এক গর্ভাবতী নার্স এক করোনা মহামারীর মাঝেও নিজের দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করে চলেছে। তাঁর কাছে রাস্তা ছিল বাড়িতে বসে সুরক্ষিত থাকার। কিন্তু তিনি সেটা বেছে না নিয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।

আরও পড়ুনঃ অবশেষে চালু হচ্ছে যাত্রীবাহী রেল, টিকিট বুকিং শুরু হয়ে গেল

রূপা প্রভিন রাও নামের এই সাদা পোশাকের যোদ্ধার বাড়ি গাজানুরু নামের এক প্রত্যন্ত গ্রামে। এই নয় মাসের গর্ভাবতী, জয়াচমরাজেন্দ্র সরকারী হাসপাতালে নার্স রুপে কর্মরতা।

তিনি প্রতি দিন তির্থহল্লি তালুক থেকে কাজে যান। ইনি হলেন সেই সব মানুষের মধ্যে এক জন যারা নিজের কথা না ভেবে প্রতিদিন করোনার সাথে লড়াই করে চলেছে, মানুষের সেবা করে চলেছে।

আরও পড়ুনঃ অটোতে মহারাষ্ট্র থেকে উত্তরাখণ্ড, পজিটিভ ২

দেশে করোনায় আক্রান্ত ১৭ হাজারের বেশি

coronavirus India

ভারতের মধ্যে বেশ কিছু জায়গার নাম উঠে এসেছে যেখানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সব থেকে বেশি। সেই তালিকাতে রয়েছে মহারাষ্ট্র, দিল্লি, গুজরাত, মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান, তামিল নাডু, উত্তর প্রদেশ -এর নাম।

আবার মৃতের তালিকা দেখলে উঠে এসেছে মহারাষ্ট্র, দিল্লি, গুজতার,মধ্য প্রদেশ -এর নাম যেখানে সব থেকে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সমগ্র দেশে মোট করোনায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১৭,২৬৫। তার মধ্যে ২,৫৪৭ জন মানুষ সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছে ও ৫৪৩ জন মানুষ মারা গেছে।

আরও পড়ুনঃ লকডাউনে এই সেক্টরগুলিতে কাজ চালুর নির্দেশ দিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক

সবথেকে বেশি করোনায় আক্রান্ত মহারাষ্ট্রে, ৪,২০৩ জন ও মারা গিয়েছে ২২৩ জন।

পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩৯ জনে। তার মধ্যে ৬৬ জন সুস্থ্য ও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ কড়া নজরদারি চলবে হটস্পট এলাকায় জানালেন প্রধানমন্ত্রী

১০০ বছর অন্তর আসে মহামারি, এ এক অলৌকিক ঘটনা

২০২০ সাল পড়তেই সমগ্র বিশ্বের সামনে উপস্থিত এক ভয়াবহ মহামারী, করোনা ভাইরাস। যার সূত্রপাত হয় ২০১৯ এর শেষ মাসে চিনের হুয়ান প্রদেশে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপারটা হল, ১০০ বছরের অন্তরে ফিরে আসা মহামারীর ইতিহাস।

ইতিহাস ঘটলে দেখা যায় ঠিক ১০০ বছর অন্তর অন্তর ঘটেছে মহামারী, প্রান নিয়েছে কোটি কোটি মানুষের।

১৭২০ সালে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছিল বিউবনিক প্লেগ। এই রোগের সূত্রপাত ঘটেছিল মার্সেইল। সেইখান থেকে শুরু হয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে এই রোগ। এই মহামারীর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘গ্রেট প্লেগ অফ মার্সেইল’। পরবর্তীতে এর আরও একটি নাম দেওয়া হয়েছিল যা ছিল, ‘ব্ল্যাক ডেথ’। এটি ছিল একটি ছোঁয়াচে রোগ।

১৮২০ সালে, ঠিক ১০০ বছরপর আবার এক মহামারীর দেখা মেলে যার নাম ‘কলেরা’। এই রোগে গোটা বিশ্বে মৃত্যু হয় ৪ কোটি মানুষের, এই রোগ ভারত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়।

এরপর সালটা ছিল ১৯২০। অদ্ভুতভাবে ঠিক ১০০ বছরপর আবার দেখা দিল এক অন্য রোগ, অন্য মহামারী যাকে স্পানিস ফ্লু বলা হত। এই মহামারী দু’বছর ধরে চলতে থাকে এই মরণ রোগ। ফলে সেই সময় ৫ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। দেখা গিয়েছিল এই ফ্লু তে মৃতের সংখ্যা বেশি ছিল ৪০ বছরের উর্ধ বয়সী মানুষের। এত টাই বীভৎস রুপ ধারণ করেছিল যে মৃতদেহ ট্রাকে বোঝাই করে নিয়ে একসাথে সৎকার করতে হয়েছিল।

নকশা অনুযায়ী পরবর্তী মহামারী টা হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালে। আর সেটাই হলো শেষ মেশ। চিন থেকে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাস এমন পৌঁছে গেছে সমগ্র বিশ্বে, কম বেশি ভাবে প্রতিটি দেশে আক্রাতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। চিন এই ভাইরাসের হাত থেকে কিছুটা নিজেকে কাটিয়ে ফেলেছে। তবে ইটালি, আমেরিকা, স্পেন, জার্মানি, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ গুলি এই রোগের সাথে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

কোনো রকম ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ার ফলে এই মহামারীকে থামানো মানুষের কাছে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কে বলতে পারে হয়তো আবার ১০০ বছর পর মানুষের কাছে আবার অন্য কোনো ভাইরাস এসে উপস্থিত হবে। যা আবার মহামারীর আকার ধারন করবে। বহু মানুষের প্রান নেবে, মহামারী কোনো শ্রেণী, জাতি, বর্ণ দেখে না, ধনী-গরিব, উচ্চ-নীচ বিচার করেনা। গ্রামের পর গ্রাম, শহর জন মানবহীন করে রেখে চলে যায়।