করোনা আবহে ডায়াবেটিস রোগীরা সুস্থ থাকবেন কী করলে দেখে নিন

Sugar Patient

সারা পৃথিবীতে করোনা যে ভাবে থাবা বসিয়েছে তাতে স্পষ্টভাবে বোঝাই যাচ্ছে যে এই জীবাণু সহজে মানুষের জীবন থেকে যাবে না।

করোনা শুধুমাত্র মানুষের জীবন নিয়ে চলেছে তা নয়, বদলে দিয়েছে মানুষের জীবন ধারা। একে বারে বদলে গেছে নিত্য দিনের জীবন সংগ্রাম। এখন মানুষকে লড়তে হচ্ছে এক অদৃশ্য শক্তির সাথে। যার ক্ষমতা মানুষের থেকে অনেক বেশি।

এর মাঝেও কিছু মানুষ আছেন যারা এখনও পর্যন্ত বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না যে করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ নামের কিছু আছে, আর যার কারণে বহু মানুষ তার প্রিয়জনদের হারিয়ে ফেলেছেন।

এই কোভিড-১৯ বিশেষকরে তাদের কে একেবারেই করুনা করছে না যাদের সুগার, হৃদপিন্ডের ও নানান অসুখে ভুগছেন।

তবে একেবারেই যে কিছু করার নেই তা নয়। কিছু না করার থেকে কিছু অন্তত করাই অনেক কিছু হয়ে থাকে। তাই সেই কথাই ভেবে বেশ কিছু সাধারণ টোটকার কথা উল্লেখ করলাম যা আপনাকে করোনার এই মহামারীর মাঝেও সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

১। মাস্ক ব্যবহার। হাত বারে বারে ধোয়া, শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা আপনাকে সুস্থ রাখতে পারে।

২। চেষ্টা করুন প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় বাইরে না কাটিয়ে বাড়িতে থাকতে।

৩। বাড়ির বাইরে গেলেই মাস্ক পড়ুন। মনে রাখবেন বাইরে থেকে বাড়িতে ফিরলেই অন্য কোনো জিনিসে হাত দেওয়ার আগে স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

৪। যাদের ডায়াবেটিক কিটো – অ্যাসিডোসিস বা ‘DKA’ নামক সমস্যা আছে তাদের মাঝে মাঝে শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। এই সমস্যাকে করোনার সাথে এক করে না দিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

আরও পড়ুনঃ পেঁয়াজের সাথে হাজির আর এক বিপদ! হুহু করে ছড়াচ্ছে নতুন এই সংক্রমন

৫। ধূমপান করা যাবে না। সাথে অন্য কোনও নেশা জাতীয় দ্রব্য যেমন মদ্যপান একেবারে বন্ধ রাখুন। এতে রোগের প্রকোপ পড়তে পারে।

৬। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন।

৭। সকালে ও সন্ধ্যাতে নিয়মিত শরীর চর্চা করুন। তবে একমাত্র ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।

৮। বাড়িতে যদি কোনো অসুস্থ ব্যক্তি থাকে তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন।

যদি কোভিডের লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। রোগ চেপে রাখবেন না, আর অবহেলাও করবেন না।

সঠিক সময়ে রোগের চিকিৎসা হওয়া খুবই গুরুত্বপুর্ন। তা নাহলে বিপদ বাড়তে পারে।

আরও পড়ুনঃ নিমপাতায় আছে এক চমৎকার ঔষধিগুন, জেনে নিন এর সঠিক ব্যবহার

সুস্থ থাকার এক মোক্ষম উপায় রোজ বাদাম খান

Nuts

দেশ বিদেশের বিভিন্ন চিকিৎসক বলে থাকেন, আপনাকে সুস্থ রাখতে পারে আপনার ফুড হ্যাবিটিই। তাই এটা খুবই জরুরি যে আপনি কি খাচ্ছেন আর কি পান করছেন। চিকিৎসকেরা মনে করেন যে, আপনার রোজের খাদ্যের তালিকায় যদি পরমাণ মত প্রোটিন, ভিটামিন ও কার্বোহাইড্রেড থাকে তবে আপনার পক্ষে সুস্থ থাকাটা কোনো ব্যপারই মনে হবে না।

কিন্তু আমরা অনেকেই ঠিক ঠাক ভাবে জানি না যে কী কী বা কী ধরণের খাবার খেলে রোজের খাবারের মধ্যে দিয়ে সঠিক পরিমাণে আমাদের শরীরে প্রোটিন, ভিটামিন ও কার্বোহাইড্রেড প্রবেশ করবে। এমন অনেক কিছু খাবার প্রকৃতিতে আছে যা এই সব ঘাটতি পূরণ করবে। যে খাবার সহজলভ্য ও সহজপাচ্য হবে। চিকিৎসকদের মতে, বাদাম হল এর মধ্যে সবচেয়ে গুনাগুণযুক্ত ফল।

আরও পড়ুনঃ মেদ নিয়ে সমস্যায় ভুগছেন, সমাধান আপনার হাতের মুঠোয়

ডাক্তাররা বলেন যে, বাদামে প্রচুর পরিমাণে গুড কোলেস্টেরল আছে। যেটা খুবই উপকারী শরীরের পক্ষে। বাদামে আছে সি-রিঅ্যাক্টিভ প্রোটিন ও ইন্টারলিউকিন। যেটা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বাদাম খেলে হৃদপিন্ড সক্রিয় থাকে ও নিয়মিত বাদাম খেলে নিয়ন্ত্রনে থাকে রক্তচাপ।

আরও পড়ুনঃ জেনে নিন নিয়মিত আমলকি খাওয়ার উপকারিতা

ঝোল নয়, এই মটন হলো একেবারে ফ্রায়েড!

মটন মানেই বাঙালির কাছে ঝালে ঝোলে কষা মাংস। তবে এবার ঝোল ঝাল থেকেও বেরিয়ে আলাদা করে ভাবছে মটন নিয়েও।

মটন রিবঃ১ কেজি
দুধঃ৫০০ মিলি
হিংঃদু চিমটি
লবঙ্গঃ৬ টি
মউরি গুঁড়ঃ৪ চা চামচ
কেশরঃ আধ চা চামচ
আদা গুঁড়ঃ২ চা চামচ
তেজপাতাঃ২ টি
দারচিনিঃ২ টুকরো
ছোট এলাচঃ৬-৮ টি
ঘিঃ২ টেবিল চামচ
বড় এলাচঃ৪ টি
টক দইঃ ৩০০ গ্রাম
বেসনঃ ১ টেব্‌ল চামচ
নুনঃস্বাদ মতো
গোলমরিচ গুঁড়ঃ আধ চা চামচ
সাদা তেলঃভাজার জন্য

পদ্ধতিঃ তেজপাতা, লবঙ্গ, ছোট এলাচ দারচিনি, বড় এলাচ সব একসাথে নিয়ে থেঁতো করে সুতির কাপড়ে মুড়ে পুঁটলি বানিয়ে নিন। এরপর কিছুটা নুন,দুধ, মৌরি গুঁড়ো, কেশর,হিং,আদা গুঁড়ো দিয়ে এক ঘণ্টার মতো মাংস ম্যারিনেট করে রেখে দিন। আরও কিছুটা দুধ দিন প্রেসার কুকারে ও তাতে মশলার পুঁটলি টা দিন। প্রেসার কুকারে ম্যারিনেট করে রাখা মাংস টা দিয়ে দিন। দুধ ফুটে উঠলে কুকারের ঢাকনাটি বন্ধ করুন ও তিনটি হুইসল ওঠা পর্যন্ত রান্না করুন।

এরপর ঢাকনাটি খুলুন ও মাংস ঢিমে আঁচে কষিয়ে নিন। এবার একটি বাটিতে বেসন, গোলমরিচ, দই ও অল্প নুন দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। ওই মিশ্রণ টিতে মাংসের টুকরোগুলি ডুবিয়ে নিন। এরপর কড়াইয়ে তেল ও ঘি একসাথে দিয়ে গরম করে লাল লাল করে ভেজে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে রেস্তরাঁর স্টাইলে ‘মটন কাবারগাহ’।

বাড়িতে বসে কিভাবে তৈরি করবেন ফ্রায়েড মোমো

how-to-make-momo-at-home

বাঙালিরা এখন মোমোর প্রেমে মুগ্ধ। রাস্তার ধারে হোক বা ছোট ঠেলায় কিংবা বড় রেস্তরাঁয়, মোমো এখন চাই সবার। দশ বছর আগে পর্যন্তও মোমো এর এত চাহিদা ছিলনা। তবে আজকের ছবি একেবারে আলাদা। বিকালের টিফিন হোক বা অফিসের কাজে, মোমো পেলে আর কি চাই!

আগে মোমো শুধুমাত্র রেস্তরাঁয় মিলত স্টিম মোমো, সঙ্গে স্যুপ আর ঝাল চাটনি। মোমোই ছিল তিব্বতের অথেন্টিক ডিশ। আর আজকাল মোমো কে ঘিরে চলছে নানা রকম এক্সপেরিমেন্ট। হরেক রকম স্বাদের ও হরেক রকম নামের মোমো পাওয়া যায় এখন কলকাতায়। চকলেট মোমো থেকে শুরু করে কবিরাজি মোমো সবই এখন পড়ছে বাঙালির পাতে। এইরকমই একটা এক্সপেরিমেন্টাল পদ নীচে দেওয়া হল!

উপকরণঃ

ময়দাঃ ২ কাপ চিকেন কিমাঃ ৪০০ গ্রাম
নুনঃ স্বাদ মতো গোলমরিচ গুঁড়োঃ ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটাঃ ২ টেবিল চামচ ডিমঃ চারটে
কর্নফ্লেক্সঃ ২৫০ গ্রাম সাদা তেলঃ ২৫০ গ্রাম
পেঁয়াজ কুচিঃ আধ কাপ পেঁয়াজ শাক কুচিঃ আধ কাপ
সয়া সসঃ ২ টেবিল চামচ

প্রণালীঃ

ময়দায় সামান্য নুন মিশিয়ে একটা ডো বানিয়ে নিন। ময়দা মাখা যেন বেশি শক্ত না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। এরপর মাখা ময়দার গায়ে সাদা তেল মাখিয়ে নিন ও ১৫-২০ মিনিট মসলিন কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে দিন। এরপর একটি পাত্র নিন ও তাতে চিকেন কিমা নিয়ে তাতে একে একে পেঁয়াজ কুচি, রসুন বাটা, সয়া সস, পেঁয়াজ শাক কুচি, গোল মরিচ গুড়ো ও নুন মিশিয়ে সতে করে নিন হালকা তেল এ। এবার ময়দার ডো টা নিন এবং ছোট ছোট করে লেচি করে নিয়ে লুচির মত করে পাতলা করে বেলে নিন। এবার তাতে চিকেনের পুর দিয়ে পুলি পিঠের আকার বা অন্য আকারও দিতে পারেন। একই ভাবে বাকি মোমো গুলো গড়ে নিন। এরপর আরেকটি পাত্র নিন তাতে ডিম ফাটিয়ে তাতে নুন আর সামান্য গোল মরিচ গুড়ো মেশান। এরপর মোমো গুলি ডিমে ডুবিয়ে কর্নফ্লেক্সের গুড়োতে মাখিয়ে নিন। করাইয়ে তেল গরম করে মোমো গুলি ডোবা তেলে ভেজে নিন। এরপর মেইয়নিজ বা মোমো এর ঝাল চাটনির সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।