বাংলাদেশে করোনার প্রভাব অব্যাহত, মৃত ১৭০ জন

coronavirus cases in bangladesh

যেখানে সারা বিশ্ব করোনার ভয়ে কাঁপছে সেখানে বাংলাদেশও যে একই পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হবে সেটা বুঝতে পারছে মানুষ। সময়ের সাথে সাথে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড় চলেছে। থামার নাম নিচ্ছে না। দেখতে দেখতে বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল ৮,২৩৮ জন। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে মৃতের সংখ্যা হল ১৭০ জন।

বিশ্বের অর্থনৈতিক ও চিকিৎসা বিদ্যায় পারদর্শী দেশগুলি আজ বিপর্যস্ত। করোনার বিভৎস রুপ এখন তাদের কাছে স্পষ্ট। তারা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সেই সব দেশের তালিকায় রয়েছে আমেরিকা, স্পেন, ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, ইরান প্রভৃতি। প্রতিবেশি দেশ ভারতে করোনায় আক্রানের সংখ্যা ৩৭,০০০ ছাড়িয়েছে। মৃত প্রায় ১,২২৩। যেভাবে করোনা ছড়াচ্ছে, তাতে ভারত ও সেই তালিকাতে চলে আসবে যে তালিকাতে রয়েছে সবথেকে বেশি করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা।

আরও পড়ুনঃ করোনায় আক্রান্ত এক বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য সাঁতরে নদী পার করলো

করোনায় আক্রান্ত এক বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য সাঁতরে নদী পার করলো

corona-infected-bangladeshi-youth-across-river-to-india

অসমঃ গোটা বিশ্ব এখন করোনার আতঙ্কে ভীত। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার হাত থেকে বাঁচতে দেশ জুড়ে চলছে লকডাউন। ফলে প্রতিটি মানুষ এখন গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে। এই অবস্থাতেও দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে চলেছে। বলা যায় ভারতের মতো জনঘনত্বপূর্ন দেশ বেশ কিছুটা দমিয়ে রাখতে পেরেছে করোনার প্রভাবকে। অন্যান্ন দেশের তুলনায় মৃত্যু হারও বেশ কম। আর সেই খবরের উপর বিশ্বাস রেখে এক বাংলাদেশি যুবক প্রানের ঝুঁকি নিয়ে নদী সাঁতরে পার করে ভারতে চলে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ দেখা দিল করোনার নতুন উপসর্গ, ডাক্তারদের নজর এখন পায়ের দিকে

জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশের এই যুবক কুশিয়ারি নদী সাঁতরে পার করে ভারতের অসমের রাজ্যের সীমাতে প্রবেশ করেন। সেখানে নিকটবর্তী গ্রামে পৌঁছে জানায় যে সে করোনায় আক্রান্ত। তাকে বাঁচানোর জন্য আর্তনাদ করতে থাকে গ্রামবাসীর কাছে। সেই পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষ ভয় পেয়ে যান এবং সেই স্থানে বিএসএফ গিয়ে পৌঁছায়। পরে বাংলাদেশি সেনার হাতে সেই যুবককে তুলে দেয় ভারতীয় বাহিনী।

জানা গিয়েছে সাঁতরে আসা যুবকের নাম আব্দুল হক। সে বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। রবিবার সকালে সাতটার দিকে ভারত সীমান্তে প্রবেশ করে ওই যুবক। সেই মুহুর্তেই তাকে বাংলাদেশের সেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ করোনা ভ্যাকসিনের উৎপাদন শুরু হতে চলেছে শিগগিরি

করোনা সংক্রমণ বাড়ছে বাংলাদেশেও

corona increasing in Bangladesh.

ঢাকাঃ বাংলাদেশে বেড়ে চলেছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় ১১২ জন নতুন করে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত মোট ৩৩০ জন আক্রান্ত হয়েছে ও আরও এক জনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা হল ২১ জন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর এর তরফে এই তথ্য বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে।

দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে সংক্রামিত (কোভিড-১৯) রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশে ৩০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে রোগির সংখ্যা।

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী সেখ হাসিনা-র চার পরামর্শ

Sheikh Hasina

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেখ হাসিনা আজ করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় পরামর্শ ও আহব্বান সংকলিত চারটি বার্তা জনগনের কাছে পৌছে দিতে চান। প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার এবং সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বার্তাগুলো প্রচারের জন্য অনুরোধ জানান।

প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত বার্তাগুলো হচ্ছেঃ

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় আপনার করনীয়ঃ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হবেন না। বাইরে থেকে বের হলে মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলুন। যেখানে সেখানে থুতু ফেলবেন না, ঘন ঘন সাবান দিয়ে বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুতে হবে। হাঁচি, কাশির সময় রুমাল বা টিস্যু পেপার দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে নিন। স্বাস্থ বিধি মেনে চলুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন।

করোনা ভাইরাসে ভীত হবেন নাঃ করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়ানোর ক্ষমতা রাখলেও ততটা প্রানঘাতী নয়। এই ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষই অনেকাংশেই কয়েকদিনের মধ্যে সুস্থ হয় ওঠে। নানা রোগে আক্রান্ত এবং বয়স্ক মানুষদের জন্য এই ভাইরাস বেশ প্রানসংহারী হয়ে উঠেছে। আতঙ্কিত হবেন না। আপনার পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীরা যাতে সংক্রামিত না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। আপনার সচেতনতা আপনাকে, আপনার পরিবারকে এবং সর্বোপরি দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখবে।

সুরক্ষণ ও চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতি নেইঃ স্বাস্থ কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পিপিই-সহ পর্যাপ্ত পরিমান সুরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত কিট মজুত রয়েছে। ঢাকায় চারটি স্থানে এবং চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেউ গুজব ছড়াবেন না।, গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সহনশীল ও সংবেদনশীল হোনঃ করোনা ভাইরাসের কারনে শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্ব এক সঙ্কটময় সময় অতিক্রম করছে। এ সময়ে আমাদের সহনশীল এবং সংবেদনশীল হতে হবে। বাজারে কোনো পন্যের ঘাটতি নেই, দেশের অভ্যন্তরের এবং বাইরের সঙ্গে সরবরাহ চেইন অটুট রয়েছে। অযৌক্তিকভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি করবেন না। সীমিত আয়ের মানুষকে কেনার সুযোগ দিন।