গর্ভাবস্থায় অষ্টম মাসে এই খাবারগুলি থেকে দূরে থাকুন

Pregnancy

গর্ভাবস্থায় প্রতিটি মহিলাই চান তাঁর গর্ভে থাকা সন্তানকে ভালো রাখতে, আর তাই হাজার রকম চেষ্টা করে থাকেন।

এই সময় নিজেকে ভালো রাখার সাথে সাথে সন্তানকে ভালো রাখার কথাও ভাবতে হয়। তাই নিজের শারীরিক অবস্থা ভালো রাখার সাথে সাথে সন্তানকে ভালো রাখার উপায় হল সঠিক খাদ্য গ্রহন।

গর্ভাবস্থায় প্রতিটি মহিলাকেই বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হবে খাবারের প্রতি। বিশেষ করে যদি অষ্টম মাসের গর্ভাবস্থা চলতে থাকে।

এই সময় কিছু খাদ্য আছে যেগুলি গ্রহণে উপকার হয়, আবার কিছু খাদ্য আছে যেগুলি গ্রহণে ক্ষতির সম্ভবনাও বৃদ্ধি পায়। তাই ডায়েটের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হয়। একটি শিশুর স্বাস্থ্য বিশেষভাবে খাদ্য ও মাতার শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভরশীল।

তাই দেখে নিন অষ্টম মাসের গর্ভাবস্থায় কী কী রকম খাবার এড়িয়ে চলবেন।

১। ধূমপান ও মদ্যপানঃ ধূমপান ও মদ্যপান স্বাভাবিক ও সুস্থ মানুষের জন্যও স্বাস্থ্যকর নয়। তবে কিভাবে এক জন গর্ভাবস্থায় থাকা মানুষের উপকারে চালার কোনো সুযোগই নেই। যদি এগুলির উপরে আসক্তি থাকে তবে এখনই ত্যাগ করে ফেলতে হবে।

২। ছাগলের দুধঃ ছাগলের দুধ এড়িয়ে চলুন। কারণ এতে থাকে টক্সোপ্লাজমোসিস। যা একজন গর্ভাবস্থায় থাকা মহিলার কাছে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুনঃ করোনা আবহে ডায়াবেটিস রোগীরা সুস্থ থাকবেন কী করলে দেখে নিন

৩। তেলেভাজাঃ এই সময় মহিলাদের টক, ঝাল, মিষ্টি খাবার বেশ পছন্দের হয়ে ওঠে। তাতে কোনো ক্ষতি নেই। তবে এই টক, ঝাল, মিষ্টি খাবারের তালিকাতে রয়েছে তেলেভাজা। যা বেশ পছন্দের খাদ্য। তবে এই খাদ্য খাওয়া একেবারেই বান্ধনিয় নয়। কারণ এই ধরনের খাদ্যে হজমের সমস্যা সৃষ্টি করে। যার কারনে গ্যাস্ট্রেইনটেস্টাইনাল সমস্যাও মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে। ফলে শিশুর স্বাস্থের উপড় সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে।

৪। কফিঃ গর্ভাবস্থার অষ্টম মাসে এসে ক্যাফেইন যুক্ত পানীয় সম্পুর্ণভাবে এড়িয়ে চলুন। কারণ এই জাতীয় পানীয় শুধা ভাব কমিয়ে দেয়। কফি বেশি পরিমাণে সেবনে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার আবির্ভাব ঘটাতে পারে।

৫। মাংসের যকৃতঃ গর্ভাবস্থায় থাকার সময় যকৃত খাওয়া থেকে বিরাম থাকুন। সাথে অর্ধেক রান্না হওয়া মাংস খাওয়া থেকে দূরে থাকুন। কারণ এই রকমের খাদ্য শিশুদের টসোপ্লাজমোসিস এবং লিস্টোরিওসিস-এর মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

তাই এই প্রকারের খাদ্য থেকে দূরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, সুখে থাকুন।

আরও পড়ুনঃ মানসিক অবসাদ বা বাড়তি ওজোন, সবকিছু থেকে মুক্তি পেতে খান আমলকী

ডিমের কুসুম কমায় ওজন, কোলেস্টেরল রাখে ঠিক! রয়েছে আরও গুন

Egg Yolk

ডিমের কুসুম ভুলেও খাবেন না, ডিমের সাদা অংশ খান! ডিমের সাদা অংশে আছে প্রোটিন আছে ও কুসুমে শুধুমাত্র ফ্যাট আছে। কোলেস্টেরল, ওজন বাড়বে! এই ধারণা এখন পুরানো। ডিমের কুসুম খেলে ওজন বাড়ে না। শরীরও খারাপ করেনা, বরং উপকারী স্বাস্থের জন্য! তবে এটি মাথায় রাখবেন কোনো কিছুই বেশি পরিমাণে ভালো না খাওয়া।

ডিমের কুসুমে কোলিন আছে, যা মেটাবলিজম পদ্ধতিকে ঠিক রাখে, তার ফলে ওজন কমে।

আরও পড়ুনঃ ঠোঁট কালো হচ্ছে সিগারেট খেয়ে, ঘরোয়া টোটকায় তা দূর করুন

ডিমের সাদা অংশ খেয়ে দেখবেন, কিছুক্ষণ পরই খিদে পেয়ে যাবে। তার ফলে আপনাকে খেতে হবে আবার। তার ফলে ওজন বাড়বে কিন্তু কমবেনা! কিন্তু ডিমের কুসুমে আছে হেলদি ফ্যাট, যেটা আপনার ওজন বাড়ায় না, উল্টে পেট ভর্তি রাখে। যারা ব্রেকফাস্টে একটা গোটা ডিম খান, তাদের কম খিদে পায় সারাদিন। তার ফলে ওজন অনেকটাই কমে!

আরও পড়ুনঃ ভারতে টিকটক সহ ব্যান চিনের ৫৮ টি অ্যাপ

ভিটামিন-বি ও অ্যামিনো অ্যাসিড ব্রেনের পুষ্টির জন্য খুবই উপকারী। কুসুম এইচডিএল অর্থাৎ মাত্রা ব্যালেন্সে রাখে ভালো কোলেস্টেরলের, ঠিক রাখে কোলেস্টেরল প্রোফাইল। আমাদের শরীর সূর্যের রশ্মি থেকে ভিটামিন-ডি’র যোগান পায়। আমাদের শরীরে খুব কম খাবারের মধ্যে দিয়েই ভিটামিন-ডি ঢোকে। ডিমের কুসুম এরমধ্যে অন্যতম!

ঝোল নয়, এই মটন হলো একেবারে ফ্রায়েড!

মটন মানেই বাঙালির কাছে ঝালে ঝোলে কষা মাংস। তবে এবার ঝোল ঝাল থেকেও বেরিয়ে আলাদা করে ভাবছে মটন নিয়েও।

মটন রিবঃ১ কেজি
দুধঃ৫০০ মিলি
হিংঃদু চিমটি
লবঙ্গঃ৬ টি
মউরি গুঁড়ঃ৪ চা চামচ
কেশরঃ আধ চা চামচ
আদা গুঁড়ঃ২ চা চামচ
তেজপাতাঃ২ টি
দারচিনিঃ২ টুকরো
ছোট এলাচঃ৬-৮ টি
ঘিঃ২ টেবিল চামচ
বড় এলাচঃ৪ টি
টক দইঃ ৩০০ গ্রাম
বেসনঃ ১ টেব্‌ল চামচ
নুনঃস্বাদ মতো
গোলমরিচ গুঁড়ঃ আধ চা চামচ
সাদা তেলঃভাজার জন্য

পদ্ধতিঃ তেজপাতা, লবঙ্গ, ছোট এলাচ দারচিনি, বড় এলাচ সব একসাথে নিয়ে থেঁতো করে সুতির কাপড়ে মুড়ে পুঁটলি বানিয়ে নিন। এরপর কিছুটা নুন,দুধ, মৌরি গুঁড়ো, কেশর,হিং,আদা গুঁড়ো দিয়ে এক ঘণ্টার মতো মাংস ম্যারিনেট করে রেখে দিন। আরও কিছুটা দুধ দিন প্রেসার কুকারে ও তাতে মশলার পুঁটলি টা দিন। প্রেসার কুকারে ম্যারিনেট করে রাখা মাংস টা দিয়ে দিন। দুধ ফুটে উঠলে কুকারের ঢাকনাটি বন্ধ করুন ও তিনটি হুইসল ওঠা পর্যন্ত রান্না করুন।

এরপর ঢাকনাটি খুলুন ও মাংস ঢিমে আঁচে কষিয়ে নিন। এবার একটি বাটিতে বেসন, গোলমরিচ, দই ও অল্প নুন দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। ওই মিশ্রণ টিতে মাংসের টুকরোগুলি ডুবিয়ে নিন। এরপর কড়াইয়ে তেল ও ঘি একসাথে দিয়ে গরম করে লাল লাল করে ভেজে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে রেস্তরাঁর স্টাইলে ‘মটন কাবারগাহ’।

বাড়িতে বসে কিভাবে তৈরি করবেন ফ্রায়েড মোমো

how-to-make-momo-at-home

বাঙালিরা এখন মোমোর প্রেমে মুগ্ধ। রাস্তার ধারে হোক বা ছোট ঠেলায় কিংবা বড় রেস্তরাঁয়, মোমো এখন চাই সবার। দশ বছর আগে পর্যন্তও মোমো এর এত চাহিদা ছিলনা। তবে আজকের ছবি একেবারে আলাদা। বিকালের টিফিন হোক বা অফিসের কাজে, মোমো পেলে আর কি চাই!

আগে মোমো শুধুমাত্র রেস্তরাঁয় মিলত স্টিম মোমো, সঙ্গে স্যুপ আর ঝাল চাটনি। মোমোই ছিল তিব্বতের অথেন্টিক ডিশ। আর আজকাল মোমো কে ঘিরে চলছে নানা রকম এক্সপেরিমেন্ট। হরেক রকম স্বাদের ও হরেক রকম নামের মোমো পাওয়া যায় এখন কলকাতায়। চকলেট মোমো থেকে শুরু করে কবিরাজি মোমো সবই এখন পড়ছে বাঙালির পাতে। এইরকমই একটা এক্সপেরিমেন্টাল পদ নীচে দেওয়া হল!

উপকরণঃ

ময়দাঃ ২ কাপ চিকেন কিমাঃ ৪০০ গ্রাম
নুনঃ স্বাদ মতো গোলমরিচ গুঁড়োঃ ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটাঃ ২ টেবিল চামচ ডিমঃ চারটে
কর্নফ্লেক্সঃ ২৫০ গ্রাম সাদা তেলঃ ২৫০ গ্রাম
পেঁয়াজ কুচিঃ আধ কাপ পেঁয়াজ শাক কুচিঃ আধ কাপ
সয়া সসঃ ২ টেবিল চামচ

প্রণালীঃ

ময়দায় সামান্য নুন মিশিয়ে একটা ডো বানিয়ে নিন। ময়দা মাখা যেন বেশি শক্ত না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। এরপর মাখা ময়দার গায়ে সাদা তেল মাখিয়ে নিন ও ১৫-২০ মিনিট মসলিন কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে দিন। এরপর একটি পাত্র নিন ও তাতে চিকেন কিমা নিয়ে তাতে একে একে পেঁয়াজ কুচি, রসুন বাটা, সয়া সস, পেঁয়াজ শাক কুচি, গোল মরিচ গুড়ো ও নুন মিশিয়ে সতে করে নিন হালকা তেল এ। এবার ময়দার ডো টা নিন এবং ছোট ছোট করে লেচি করে নিয়ে লুচির মত করে পাতলা করে বেলে নিন। এবার তাতে চিকেনের পুর দিয়ে পুলি পিঠের আকার বা অন্য আকারও দিতে পারেন। একই ভাবে বাকি মোমো গুলো গড়ে নিন। এরপর আরেকটি পাত্র নিন তাতে ডিম ফাটিয়ে তাতে নুন আর সামান্য গোল মরিচ গুড়ো মেশান। এরপর মোমো গুলি ডিমে ডুবিয়ে কর্নফ্লেক্সের গুড়োতে মাখিয়ে নিন। করাইয়ে তেল গরম করে মোমো গুলি ডোবা তেলে ভেজে নিন। এরপর মেইয়নিজ বা মোমো এর ঝাল চাটনির সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।

গবেষনা বলছে মাতৃদুধে বাচ্চার উচ্চতা ও ওজন নির্ভর করে

mother milk

ইউনিস কেনেডি শ্রাইভার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (এনআইসিএইচডি) দ্বারা একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, দুধের ওলিগোস্যাকচারাইডস (এইচএমও) প্রাথমিক শৈশবকাল থেকেই শিশুর বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে National NIH এ)। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে যে মাতৃ স্থূলত্ব স্তন্যপানিতে এইচএমও রচনাতে প্রভাব ফেলতে পারে। এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন সান দিয়েগো, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি লার্স বোডের নেতৃত্বে।

বুকের দুধে পাওয়া এইচএমওগুলি জাতীয় জটিল শর্করা, শিশুরা সরাসরি এগুলি হজম করতে না। পরিবর্তে, এইচএমওগুলি অন্ত্রের মাইক্রোবায়মের সংমিশ্রণকে প্রভাবিত করে প্রিবায়োটিক হিসাবে কাজ করে। পূর্ববর্তী গবেষণায় দেখা গেছে যে এইচএমওগুলি শিশুদের রোগজনিত জীবাণু থেকে রক্ষা করে। প্রায় 150 ধরণের এইচএমওগুলি জানা যায়, এবং মায়েরা তাদের বুকের দুধে অনন্য সংমিশ্রণ এবং ঘনত্ব রাখেন, যা জেনেটিক্স এবং তাদের যে ধরণের এইচএমও-প্রসেসিং এনজাইমগুলির দ্বারা প্রভাবিত হয় তার দ্বারা প্রভাবিত হয়।

শিশুদের বিকাশের ফিনিশ গবেষণায় গবেষকরা প্রায় 800 জন মা ও শিশুদের জুড়ি মূল্যায়ন করেন। গবেষকরা বুকের দুধের নমুনায় এইচএমওগুলির বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করেছেন (শিশুরা 3 মাস বয়সে সংগ্রহ করা হয়েছিল), তাদের মধ্যে দুটি এইচএমও রয়েছে যা এখন কয়েকটি বাণিজ্যিক শিশু সূত্রে যুক্ত করা হয়েছে: 2′-ফুকোসিল্ল্যাকটোস (2’FL) এবং ল্যাকটো-এন-নিও -টেট্রোজ (এলএনএনটি)।

লম্বা এবং ভারী শিশুদের এবং শিশুদের মায়েদের বুকের মিল্কের মধ্যে কম বৈচিত্র্য এইচএমও রচনা রয়েছে, 2’FL এর উচ্চ ঘনত্ব এবং এলএনএনটি-র নিম্ন ঘনত্ব রয়েছে। অতিরিক্ত ওজনযুক্ত ও স্থূলকায় মায়েদের মায়ের বুকের দুধেও কম বৈচিত্র্যযুক্ত এইচএমও রচনা রয়েছে, 2’FL এর উচ্চ ঘনত্ব এবং LNnT এর নিম্ন ঘনত্ব রয়েছে।

লেখকদের মতে, এই ফলাফলগুলি তাদের পূর্ববর্তী দুটি ছোট অধ্যয়নের ফলাফল নিশ্চিত করেছে। একসাথে, তিনটি গবেষণায় এইচএমও রচনা এবং শিশুদের বৃদ্ধির একই ধরণের মাতৃদের তিনটি গ্রুপের মধ্যে পাওয়া যায়। লেখকরা লক্ষ করেছেন যে, যদিও তাদের অধ্যয়নটি শৈশবকালীন বৃদ্ধির সাথে এইচএমও রচনাটি যুক্ত করেছে, এটি প্রমাণ করতে পারেনি যে এইচএমও নিদর্শনগুলির পরিবর্তনের ফলে বাচ্চাদের বৃদ্ধির পার্থক্য দেখা দেয়। যদি অতিরিক্ত অধ্যয়নগুলি তাদের অনুসন্ধানগুলি নিশ্চিত করে তবে নির্দিষ্ট এইচএমওগুলি একদিন শৈশবকালীন বৃদ্ধির সমস্যা এবং স্থূলত্বের জন্য চিকিত্সা সরবরাহ করতে পারে।