জেনে নিন করোনা ভাইরসের ৮ টি অজানা তথ্য

প্রতি দিন হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে করোনা ভাইরাসে। আর এই সংখ্যা বেড়ে চলেছে সময়ের সাথে। আবার এও দেখা গেছে প্রচুর মানুষ এমন আছে যারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত কিন্তু কোনো রকম অসুস্থতা অনুভব করছে না।

এই রোগের ভয়াবহতা দেখা দেয় ডিসেম্বর মাসে। সালটা ছিল ২০১৯। চিনের হোয়ান প্রদেশে প্রথম বার দেখা যায় এই ভাইরাস।

প্রায় ৩ মাস সমাপ্ত হতে যায় কিন্তু এমন অনেক কিছু আছে যার উত্তর এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে নেই এই ব্যাপারে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে সময় কাটছে তাদের। তবুও তারা অনেক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

চলুন জেনে নিন করোনা ভাইরাসের ৮ টি অজানা তথ্য

কিছু সাধারন প্রশ্ন উঠে আসে যা আমাদের জানা খুবই দরকার। আতঙ্ক প্রতিটি মানুষের মধ্যে বাসা বেঁধেছে। এই প্রশ্ন গুলি সাহায্য করতে পারে।

১। এই করোনা ভাইরাস কোথা থেকে এলো?

এই ভাইরাস প্রথম চিনের হোয়ান প্রদেশের একটি বাজার থেকে দেখা দেয়। সময়টা ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে।

করোনা ভাইরাসকে সরকারিভাবে বলা হয়ে থাকে Sars-CoV-2 । যেটি বাদুরের দেহে পাওয়া ভাইরাসের মতো সমান। যদিও এই ভাইরাসটি বাদুরের দেহ থেকে অন্য অজানা কোনো প্রানীর দেহে প্রবেশ করে আর সেখান থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়।

people are scared for coronavirus

২। কত মানুষ এই করোনা ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত?

এটি খুবই সাধারন একটি প্রশ্ন আবার খুবই গুরুত্বপূর্নও বটে।

হু এর তথ্য অনুযায়ী, এখনো পর্যন্ত সমগ্র বিশ্ব জুড়ে ৬ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত। কিন্তু প্রচুর এমন মানুষও আছে যাদের দেহে করোনা ভাইরাস আক্রমণ করেছে কিন্তু তার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। সব ক্ষেতে যে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়বে তা নয়।

৩। কতোটা ক্ষতিকর এই রোগ?

বর্তমানে দেখা গেছে যে এই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ মানুষ মারা যাচ্ছে। তবে ৮০ বছর ঊদ্ধে মানুষের মৃত্যু হার প্রায় ২১ শতাংশ।

৪। এই রোগের লক্ষণ কী?

প্রধান যে লক্ষণগুলি দেখা যাচ্ছে সেগুলি হল, জ্বর, শুকনো কফ। এর পরে দেখা যায় গলা বেথা, মাথা ব্যথা, ডায়ারিয়া কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে। কিছু রোগীর ক্ষেতে হালকা শর্দি ছাড়া আর কিছু দেখা যায়নি।
গবেষণায় দেখা গেছে কিছু মানুষ এমনও আছে যাদের শরীরে এই জীবাণু দেখা যেছে কিন্তু সেরকম ভাবে কোনো গুরুতর লক্ষণ দেখা যায়নি।

৫। এই জীবাণু ছড়ানোর পিছনে বাচ্ছাদের ভূমিকা কী?

বাচ্চাদের এই ভাইরাস আক্রমন করে। তাদের মধ্যে সামান্য সর্দি দেখা দেয়। তবে অন্যান্য বয়সের মানুষের থেকে এদের মৃত্যু তুলনামুলকভাবে কম।

তবে বাচ্চাদের থেকে সব থেকে বেশিভাবে এই জীবাণু ছড়ায়। কারণ একটি বাচ্চা একই সাথে অনেক মানুষের সংস্পর্ষে থাকে, বিশেষকরে ভারতের মতো দেশে যেখানে একান্নবর্তী পরিবারে বাচ্চারা বড় হয়ে ওঠে। তবে এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের কাছে স্পষ্ট নয় যে কিভাবে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে।

coronavirus tests

৬। কিছু মানুষের দেহে অনেকগুলি লক্ষণ দেখা দিচ্ছে কিভাবে?

Covid-19 সাধারনত একটি সাধারন সংক্রমণ। কিন্তু দেখা গেছে ২০ শতাংশ মানুষের ক্ষেতে ব্যাপারটা সাধারন থাকছে না।

কারণ কোনও ব্যক্তির ইমিউন সিস্টেমের অবস্থা কেমন আছে তার উপর এই রোগের প্রভাব নির্ভর করে ও আবার কিছু জিনগত কারণও থাকতে পারে।এই রোগ ধরা পড়ার পর ভালো ভাবে যত্নের প্রয়োজন থাকে ও কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়ে থাকে।

৭। এই রোগ কত দিন পর্যন্ত থাকবে, দ্বিতীয়বার কি হতে পারে?

সেই ভাবে বিজ্ঞানীদের চোখে না পড়লেও সাধারন কিছু জিনিস তাদের চোখে ধরা পড়েছে। তবে এই রোগটি যেহেতু ৩ মাস আগে এসেছে তো সেইভাবে কোনো দির্ঘমেয়াদী ফলাফল ডাক্তাররা বলতে পারছেন না এই মুহুর্তে। কিছু ভুল তথ্যও মানুষের কাছে যাচ্ছে। যেমন নাকি এই রোগে সেরে ওঠা মানুষরা আবার আক্রান্ত হচ্ছে। এই তথ্য একেবার ভুল।

Courtesy: WHO

৮। এই ভাইরাস কি পরিবর্তন হচ্ছে?

ভাইরাস নিজেকে সব সময় পরিবর্তন করতে থাকে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে তাদের জেনেটিক কোড এক থাকে।

দেখা গেছে, বেশি দিন ধরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ পরার ফলে সেই ভ্যাকসিন আর কাজ করে না।

Leave a Comment